বিশ্বসেরা লোগো ডিজাইনাররা যেভাবে লোগো বানায় – লোগো ডিজাইন টিপস

বিশ্বসেরা লোগো ডিজাইনাররা যেভাবে লোগো বানায় – লোগো ডিজাইন টিপস

 আমরা যারা লোগো ডিজাইন করি তারা কে না জানতে চাই সেরা লোগো ডিজাইনাররা কিভাবে ডিজাইন করে। এই আর্টিকেল এ আপনি জানতে পারবেন কিভাবে সেরা সেরা লোগো ডিজাইনার লোগো ডিজাইন করে। তারা কোন প্রসেস এ প্রফেশনাল লোগো তৈরি করে সেটা জানতে পারবেন

একা কথা সেটা হচ্ছে আমরা কিন্তু কোন ভাবে ই কোন ডিজাইনার এর লোগো কপি করবো না,তাই কিভাবে কপি করতে হয় সেটা বলছি না, কিভাবে লোগো ডিজাইন করবেন সেটা বলছি। আপনাকে জানতে হবে তারা কি ভাবে লোগো ডিজাইন করে।

তাদের ডিজাইন এর প্রসেস

১. যার লোগো তার কাছ থেকে ভাল ভাবে জেনে নেয়া

২. যে বিষয় এর উপর লোগো বানানো হবে সেটা নিয়ে গবেষণা করা

৩. ভিজুয়াল ভাবে গবেষণা করা, অর্থাৎ অন্যরা কিভাবে ডিজাইন করেছে সেটা দেখে নেয়া

৪. যেরকম ভাবে গবেষণা করা হয়েছে সেরকম করে স্কেচ তৈরি করা

৫. কিছুটা বিরতি নেয়া ফাইনাল ডিজাইন করার আগে

৬. কিভাবে কাজ করা হবে সেটা ঠিক করা

৭. বায়ারকে কিছু ডিজাইন দেখানো

৮. উদযাপন করা

প্রতিটা পয়েন্ট বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি

যার লোগো তার কাছ থেকে ভাল ভাবে জেনে নেয়া

মোটামুটি সব ডিজাইনার ই একমত হয়েছে যে লোগো ডিজাইন এর মধ্যে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল বায়ের এর কাছ থেকে তথ্য নেয়া। সেটা বিভিন্ন ভাবে হতে পারে। কি ধরনের কোম্পানি, ব্র্যান্ডকে কিভাবে তুলে ধরতে চাইছে। কোন ব্র্যান্ড এর জন্য কোন কালার ঠিক করা আছে কিনা আরও অনেক কিছু।

ডিজাইনার জন হোমস বলেছে ডিজাইন শুরু করার বায়ারকে বিস্তারিত ভাবে বুঝা প্রয়োজন। ডিজাইন কখন অন্ধকারে গুলি করার মতো ব্যাপার না এটা ঠিক তার উল্টো।

যে বিষয় এর উপর লোগো বানানো হবে সেটা নিয়ে গবেষণা করা

লোগো কি ধরনের হবে সেটা জানার পর গুরুত্বপূর্ণ হল আপনি যে কোম্পানির লোগো বানাচ্ছেন সে কোম্পানি সম্পর্কে জানা, সে কোম্পানির বিজনেস সম্পর্কে জানা। একদম বেসিক কিছু ব্যাপার, কোম্পানির ইতিহাস, তাদের প্রতিযোগী এবং বাজেট যদি ভাল থাকে তাহলে কোম্পানির ভিতরের আরও বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে জানতে হবে।

ভিজুয়াল ভাবে গবেষণা করা, অর্থাৎ অন্যরা কিভাবে ডিজাইন করেছে সেটা দেখে নেয়া

এই গবেষণা আপনার বায়ার এর লোগোর উপরে ঠিক না, আপনার বায়ারের লোগো দেখতে কেমন হবে সেটির উপর। সেটি কিভাবে করবেন, আপনি এক এ ধরনের বিজনেস এর লোগো দেখুন, যেমন আপনার বায়ার যদি ই কমার্স বিজনেস এর জন্য লোগো ডিজাইন করতে বলে তাহলে আপনি দেখুন অন্যান্য ই কমার্স বিজনেস এর লোগোগুলি কেমন, দেখুন, ভাল এবং খারাপ খুজে বের করুন দেখবেন সেখান থেকে একটি অনুপ্রেরনা পেয়ে গেছেন। এবং আপনি  নিজেকে জিজ্ঞাসা করবেন আপনি যে লোগো বানালেন সেটি কেন দর্শক পছন্দ করবে অথবা পছন্দ যদি না করে তাহলে কেন করবে না।

 

যেরকম ভাবে গবেষণা করা হয়েছে সেরকম করে স্কেচ তৈরি করা

যেখানে আপনি লোগো ডিজাইন এর ধারনা ঠিক করছেন সেখানে সৃজনশীলতা খুব ই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেখানে ডিজাইনার অবশ্যই  বায়ার এর চাহিদা, কোম্পানির ধরন অনুযায়ী ডিজাইন করবে এবং ডিজাইন করার আগে গবেষণা করে নিবে। সেগুলির উপর ভিত্তি করে ডিজাইনার আগে স্কেচ করে নেয়, কেউ হয়তো কাগজে কলমে করে, কেউ কম্পিউটারকে সাদা কাগজ এর মতো মনে করে স্কেচ করে, জেভাবে ই করুক স্কেচ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ডিজাইনার লোগো একটি ডিজাইন বের করার চেষ্টা করবে এবং সে লোগোর মধ্যে কোন ধরন এর মেসেজ দেয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে ভাববে। যেমন FedEx লোগোর মধ্যে যে এরো চিহ্নটা আছে, “E” এবং “X” এর মধ্যে তাকান একটি এরো চিহ্ন দেখতে পাবেন।
আর এটি যেহেতু একটু কুরিয়ার কোম্পানি তার এখানে এরো দিয়ে গতি বুঝানো হয়েছে। এই ধরনের লোগো দর্শক এর মনে অনেক তাড়াতাড়ি সারা ফেলে। তাই লোগোর মধ্যে একটি গল্প অথবা মেসেজ রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

 

কিছুটা বিরতি নেয়া ফাইনাল ডিজাইন করার আগে

সব কিছু প্ল্যানিং করার পর কিছুটা বিরতি নেয়া ডিজাইন প্রসেস এর ই একটি অংশ। যেহেতু এটা সৃজনশীলতার কাজ তাই কাজ করতে করতে আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে সেটাই স্বাভাবিক। তাই এখানে বিরতি নেয়া প্রয়োজন, এর মধ্যে আপনি যে আইডিয়া ঠিক করেছেন সেটা আরও পরিপক্ক হবে এবং আপনি যখন ডিজাইন করতে বসবেন তখন দেখবেন আপনি দক্ষতার সাথে ডিজাইন করতে পারছেন।

কিভাবে কাজ করা হবে সেটা ঠিক করা

এখানে লোগো ডিজাইনার ঠিক করে সে কিভাবে কাজ করবে। এখানে কি সে একজন পুরাপুরি কনট্রাক্টর এর মতো কাজ করবে যে বায়ার যেরকম বলবে ঠিক সেভাবে ই করে দেয়া, উদাহারন হিসেবে এখানে সে বায়ারকে কোন পরামর্শ দিবে না ডিজাইন সম্পর্কে, বায়ার যেটা ভাল মনে করবে সে ভাবে ই করবে অথবা এখানে ডিজাইনার বায়ার এর সাথে একটি দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কে যাওয়ার জন্য সে বায়ারকে বিভিন্ন ভাবে আইডিয়া সাহায্য করবে যেরকম একজন উকিল করে থাকে।

 

বায়ারকে কিছু ডিজাইন দেখানো

এখানে অবশ্যই ডিজাইনার বায়ারকে তার কিছু কাজ দেখাবে, এখানে বায়ার অনেকগুলা ডিজাইন করে একসাথে বায়ারকে দেখাতে পারে অথবা কিছু নির্বাচিত ডিজাইন বায়ারকে দেখাবে। এখন এখানে কি করা যায় সেটা একটা বিতর্কিত বিষয় তাই এখানে নিজের কাজের উপর নির্ভর করে কাজ দেখানো উচিত। আপনি যদি মনে করেন একটি দুইটি ডিজাইন বায়ার পছন্দ না ও করতে পারে তাহলে আপনি বায়ারকে অনেকগুলি ডিজাইন দেখান থেকে হয়তো বা তার পছন্দ করতে সুবিধা হবে আবার উল্টাটা ও হতে পারে।

 

উদযাপন করা

৭৫ ভাগ টপ ডিজাইনার তাদের ডিজাইন ফাইনাল হউয়ার পর সেই খুশি বিভিন্নভাবে উদযাপন করে, কেউ হয়তো চকলেট দিয়ে কেউ টানা কয়েক ঘন্ট ঘুম দিয়ে আর বাকিরা সেটা করার সুযোগ ই পায় না কারন তাদেরকে অবশ্যই খুব তাড়াতাড়ি পরের লোগো ডিজাইন এর কাজ শুরু করে দিতে হবে।

উপসংহার

যখন বায়ার ডিজাইনারকে ব্রিফ করে তখন প্রত্যেকটা ডিজাইনার ই আলাদা আলাদা ভাবে সেটা বুঝে নেয়।  যদি একটি  লোগো ডিজাইন ১০০ জনকে করতে দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে ১০০টা আলাদা আলাদা ডিজাইন বের হয়েছে। এখানে সফল হউয়ার মতো একটা টিপস দেয়া যায় সেটি হল প্রথম আইডিয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করুন কিন্তু অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করবেন না

 

আরিফুল ইসলাম

 

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

1 Comment

  1. ভাই জিবনের প্রথম লোগো ডিজাইন সম্মন্ধে আপনার লেখাটা পড়লাম, শিখার খুব ইচ্ছা, আশির্বদ চাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *