e commerce mistakes

ই কমার্স এর কিছু ভুল এবং সমাধান- ই কমার্স টিপস

ই কমার্স এর কিছু ভুল এবং সমাধান- ই কমার্স টিপস

ফোকাস এর অভাব

আপনি আপনার  ই কমার্স বিজনেস এ বিক্রি করতে চান জামা কাপড় কিন্তু আপনি আপনার ফেসবুক পেজে অথবা ওয়েবসাইট এ সব প্রোডাক্ট দিয়ে রাখলেন যা আপনি হয়তো আগে সংরহ করেছিলেন, ভাবলেন দিয়ে রাখি যদি কেউ কিনে। এরকম করা যাবে না, আপনি যদি সব প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আলাদা কথা কিন্তু আপনি যখন একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তখন আপনাকে সেগুলি ই ফোকাস করতে হবে।

আর সেলিং পোস্ট দেয়ার আগে লক্ষ্য রাখেন সেটা যেন সাদামাটা না হয়, এক হচ্ছে আপনি “আপনি কাপড় বিক্রি করবেন” আর এক হচ্ছে “আপনি স্পাইডার ম্যান এর মত ড্রেস বিক্রি করবেন” বুঝতেই পারছেন কোনটা আকর্ষণীয় হবে। তাই এগুলি চিন্তা করে পোস্ট দেন।

 

অনলাইন অর্ডার এর পেজ সহজ করা

e-Commerce বিজনেস এর অন্যতম প্রধান আর একটা ভুল হচ্ছে অনলাইন এ যে পেজে অর্ডার দিতে হয় সেটা অনেক জটিল ভাবে দেয়া, কাস্টোমার হয়তো অনেক কিছুই বুঝতে পারে না কোথায় কি করতে হবে, তাই একদম সিম্পল করে করার চেস্টা করেন, আপনার যে তথ্যগুলো না জানলে ই না সেগুলি ছাড়া বাড়তি তথ্য জানার দরকার আছে বলে মনে হয় না

আপনাকে সাধুবাদ যে আপনি অনেক ভিজিটর নিয়ে আসছেন আপনার পেজে কিন্তু ভিজিটররা কি কাস্টোমার হচ্ছে? আর সেটা যদি না হয় তার একটা প্রধান কারন অর্ডার করতে গিয়ে অনেক কিছু না বুঝতে পারা আর এর জন্য ভিজিটর থেকে কাস্টোমার এর পরিমান কম হচ্ছে।

এখন অনেকেই গেস্ট হিসেবে অর্ডার করা অথবা ওয়ান ক্লিক এ অর্ডার করার সিস্টেম রাখছে, আপনি যদি চান আপনার বেশির ভাগ ভিজিটর আপনার বায়ার হোক তাহলে এটা সহজ করেন

 

SEO কে বাতিল করা

e-Commerce এর দুনিয়াটা ভুল ধারনা দিয়ে ভর্তি যেমন অনেকেই বলে গুগলে নিজের সাইট এনে কোন লাভ নাই, সেল হবে না কারন সেখানে আমাজন ই বে ইত্যাদি সাইট প্রথম ৫ এ থাকে।

আপনি অবশ্যই আমাজন ই বে এর সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন আপনার পেজের পর্যাপ্ত পরিমান ভ্যালু থাকে। অনেক সময় নিশ অথবা প্রোডাক্ট এর বিষয়ের উপর নির্ভর করে আপনি হয়তো আমাজন অথবা ইবের থেকে ও এগিয়ে থাকতে পারেন

আপনার প্রোডাক্ট এর বিস্তারিত বিবরন লিখেন, ভিজিটরদের কাছ থেকে ভালো রিভিউ নেন, তবে ফেক কিছু না, মোট কথা পেজকে ভালো করে SEO করেন। কাজে দিবে আশা করি।

 

অপেশাদার দেখানো

ই কমার্স এর জন্শুয ধু ওয়েবপেজ বানালেন, এফিলেয়ট পার্টনার নিলেন তারা ও মার্কেটিং এর জন্য সাইট বানালো, তারপর কি? সেলের পর সেল টা না কিন্তু? এখানে ব্র্যান্ড করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যত ই ওয়েব সাইট বানান সুন্দর করে, মানুষ যদি আপনার কাছে বিশ্বাস না পায় তাহলে কোন লাভ হবে না।

 

আপনাকে যেটা করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমান মানুষকে এক সাথে নিয়ে আসতে হবে, সেটা ফেসবুক বুস্ট করে যে করতে হবে সেটা না, এটা কে আমি ব্র্যান্ড এর জন্য খুব ভালো উপায় মনে করি না।

কন্টেস্ট এর আয়োজন করেন, সেটা একটু বুস্ট করে দেন যেন মানুষ জানে, ভালো প্রাইজ দেন, প্রাইজ যেদিন দিবেন সেদিন অফিসে একটা বড় করে অনুষ্ঠান করেন, বাসায় কাজ করলে একটা অডিটোরিয়াম ভাড়া করে করেন, ফেসবুক মার্কেটিং মানে কিন্তু এই না যে গুগলে থেকে ছবি নিয়ে পোস্ট করলেন আর হয়ে গেলো। আপনাকে বাস্তবে মানুষের কাছে যেতে হবে। সেগুলি ফেসবুক এ দিতে হবে, তাদের রিভউ দিতে হবে তাহলে ই একটা ব্র্যান্ড ধিরে ধিরে হবে।

 

কাস্টোমার সম্পর্কে কিছু না জানা

সব কিছু রেডি, ওয়েবসাইট রেডি, প্রোডাক্ট রেডি এখন কথা হচ্ছে এই প্রোডাক্ট কারা কিনবে, প্রথম ভুল হচ্ছে কাস্টোমারের কথা চিন্তা না করেই প্রোডাক্ট নির্বাচন তাই বিভিন্ন ওয়েবসাইট এ যান, ফেসবুক পেজে যান, বের করার চেস্টা করেন কারা কি ধরনের প্রোডাক্ট কিনছে, এদের মধ্যে কারা পরিমানে বেশি, সেই প্রোডাক্ট এর মধ্যে আপনি কোনগুলা জোগাড় করতে পারবেন ইত্যাদি।

এটা কোন বড় ব্যাপার না যে আপনি কি চান মনে রাখবেন কাস্টোমার কি চায় সেটাই প্রধান, আর সেটা বুঝে ই আপনার কাজ করতে হবে।

 

ই কমার্স বিজনেস এ মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করে অর্ডার করবে তাই আগে ঠিক করতে হবে বিশ্বাস এর জায়গাটি, যেটা কে আমরা ব্র্যান্ড বলি। সেই বিশ্বাস আপনাকে প্রোডাক্ট বিক্রির আগে থেকে শুরু করে বিক্রির পর ও ধরে রাখতে হবে, একটা সময় গিয়ে সেটা প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই ব্র্যান্ড এর জন্য কাজ করে যান, বাকিগুলা ও হবে আশা করি।

 

আরিফুল ইসলাম।

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।