৯৯ ডিজাইন

৯৯ ডিজাইন এ কিভাবে সফল হবেন- দারুন টিপস

৯৯ ডিজাইন এ কিভাবে সফল হবেন- দারুন টিপস

৯৯ ডিজাইন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করা কি অনেক কঠিন? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে অনেক কঠিন কিন্তু অসম্ভব না। তবে শুধু ভালো ডিজাইন করলে ই এই ধরন এর প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করা অনেক কঠিন। প্রতিটা মার্কেটপ্লেস এর একটা কমিউনিটি থাকে সে ভাবে কাজ করতে হয়। আপনি হয়তো অনেক ভালো ডিজাইন করেন কিন্তু সফল হচ্ছেন না তার মানে হচ্ছে আপনি কিছু নিয়ম জানেন না। জেনে নিন, নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার উন্নতি।

ব্রিফ পড়েন, পরেছেন? আবার পড়েন

৯৯ ডিজাইন এ ব্রিফ হচ্ছে  প্রতিযোগিতার শুরু এবং শেষ, মোট কথা হলো সব কিছুই। ব্রিফ আপনাকে ভালো করে পড়তেই হবে না হলে আপনি যে ডিজাইন করবেন সেটা যতই ভালো হোক, বায়ার এর কাছে হয়তো ভালো লাগবে না।

গোয়েন্দা হবার চেষ্টা করেন

বেশির ভাগ বায়ার ই কিন্তু আপনাকে ব্রিফ এ সব কিছু বলে দিবে না। সে একটা সামারি লিখে দিবে সেখান থেকে আপনাকে বের করতে হবে বায়ার এর কি পছন্দ কি অপছন্দ, প্রতিযোগিতায় বায়ার এর কি পছন্দ কি অপছন্দ এটা যদি বের করতে পারেন তাহলে আপনার জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এরপর বায়ার যেভাবে বলছে সেটা বুঝতে সমস্যা হলে গুগল এ চলে যান, সেখান থেকে ভালো করে বুঝে নেন।

 

বায়ার এর কমেন্ট পড়ুন

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ৯৯ ডিজাইন এ  অন্য ডিজাইন এ যদি বায়ার কমেন্ট করে তাহলে সেগুলা পড়েন, তাহলে বুঝতে পারবেন বায়ার কি চায়, কি ধরন এর ডিজাইন পছন্দ করছে। ব্রিফ পরার পড় এটা দেখেন তাহলে ভালো হবে।

আপনার ডিজাইন বুঝিয়ে দেন বায়ারকে

৯৯ ডিজাইন এ ডিজাইন সাবমিট করে অবশ্যই আপনি কি চিন্তা করে ডিজাইনটা করেছেন, ডিজাইন এর মধ্যে কি গল্প তৈরি করেছেন, ডিজাইন এর যুক্তিগুলা কি কি ছিলো, ব্রিফ এর বাইরে গিয়ে যদি ডিজাইন করেন তাহলে কেনো সেটা করেছেন, সেটা ভালো করে বিস্তারিত ভাবে লিখে দেন। কারন সবাই কিন্তু শুধু ডিজাইন দেখে না ও বুঝতে পারে। আর আপনার ডিজাইন এ আপনি যা করেছেন সেটা সে নিলে তার কি কি লাভ হতে পারে সেটাও লিখে দিতে পারেন। আপনি ডিজাইন পরিবরতন করতে পারবেন এটা বায়ারকে লিখে দিবেন।

ভদ্র ভাবে যোগাযোগ করেন

এখানে কোন কিছুর লেখার প্রয়োজন আছে মনে করি না।

নিজের ডিজাইনকে অন্যদের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেন

৯৯ ডিজাইন সহ প্রায় প্রতিটা প্রতিযোগিতার একটা সমস্যা হচ্ছে যে ব্রিফ এ যদি কোন আইডিয়া দেয়া থাকে আর সেই প্রতিযোগিতা যদি ব্লাইন্ড না হয় তাহলে বেশির ভাগ ডিজাইন এক ই রকম হবার সম্ভাবনা থাকে, আর সেটা হলে বায়ার ও মাঝে মাঝে দ্বিধায় পড়ে যায় যে সে কারটা নিবে, তখন ব্যাপারটা অনেকটা লটারির মত হয়ে যায় আপনার ভাগ্য ভালো থাকলে আপনি জিতবেন। কিন্তু আপনি যদি একটু চেষ্টা করেন তাহলে আপনি ভালো করতে পারবেন। কি করবেন? একটু আলাদা কিছু করার চেষ্টা করবেন। এরকম ভাবে কাজ করতে হলে কম পক্ষে ১০-১৫টা ডিজাইন সাবমিট হবার পর আপনি আপনার ডিজাইন সাবমিট করেন।
এখানে একটা জিনিস মনে রাখবেন আপনি যদি কোন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসেন, তারপর যদি আপনার আইডিয়ার মত করে কেউ ডিজাইন সাবমিট করে সে সব ডিজাইন কিন্তু বায়ার এর কাছে গুরুত্ব পাবে না। তাই এটা চিন্তা করার দরকার নাই যে আইডিয়া কপি হয়ে গেলে তো সমস্যা।

যেমন, সবাই যদি টেক্সট বেসড লোগো দেয় আপনি একটু অন্যরকম করার চেষ্টা করেন, সবাই যদি এক ধরন এর কালার দেয় আপনি চেষ্টা করেন সেটা না দিয়ে একটু অন্যরকম করে দিতে, মোট কথা সবার থেকে একটু অন্যরকম করে করতে চাইলে আপনাকে ব্রিফ থেকে একটু সরে আসতে হবে, ব্রিফ এর মুল ব্যাপারগুলা রেখে নিজের মত কিছু।
কমপক্ষে দুইটা ডিজাইন সাবমিট করতে পারেন। একটা অন্যরা যেভাবে করেছে একদম সেরকম অর্থাৎ একদম ব্রিফ এর মধ্যে থেকে আর একটা করেন একটু অন্যরকম ভাবে, একটু ব্রিফ থেকে সরে এসে।

Rapid prototyping সিস্টেম ফলো করেন

আপনি কি ডিজাইন করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পাড় করছেন। তাহলে হয়তো সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না। দেখা গেলো আপনি একটা ডিজাইন এ অনেক সময় দিলেন এরপর সেটা জয়ী হলো না তাহলে আপনার মধ্যে হতাশা কাজ করতে পারে। তাহলে Rapid prototyping সিস্টেম এ ডিজাইন করেন।
এটা মূলত প্রোডাক্ট ডিজাইন এর থিওরি যেখানে বলা হচ্ছে যে আপনি প্রথমে খুব বেশি বিস্তারিত ডিজাইন এ যাবেন না, অনেক বেশি সময় দিবেন না, সে জায়গায় আপনি একটা অথবা একাধিক পরীক্ষামূলক ভার্সন তৈরি করেন, এটা করে আপনি প্রাথমিক ভাবে আপনার বায়ার এর কাছ থেকে ফিডব্যাক নেন এরপর ফিডব্যাক অনুযায়ী আপনার ডিজাইন ইম্প্রুভ করেন। এটা করলে যেটা হবে যে আপনি খুব অল্প সময়েই বুঝতে পারবেন যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা কাজ করছে না।

এটা কিভাবে করবেন আপনি

  • ৩ থেকে ৪ টা ডিজাইন করেন, পরীক্ষামূলক হিসেবে, মনে রাখবেন যে একটার সাথে আর একটার কোন মিল থাকবে না এবং ডিজাইন এ খুব বেশি সময় দেয়ার দরকার নেই কারন এটা ফাইনাল ডিজাইন হবে না, আপনি আপনার আইডিয়া তুলে ধরবেন বায়ার এর কাছে।
  • একটা ডকুমেন্ট এ সবগুলা ডিজাইন একসাথে করে সাবমিট করেন এবং দেখেন বায়ার কোনটা পছন্দ করে।
  •  বায়ার এর পছন্দ অনুযায়ী পরে সেটা সুন্দর করে ডিজাইন করে সাবমিট করেন।

 

প্রথমেই পারফেক্ট হতে হবে না

একটা ডিজাইন এর আইডিয়া বুঝিয়ে একটা মোটামুটি ডিজাইন করা অনেক বেশি ভালো একটা ডিজাইন এ আপনি অনেক সময় দিয়ে ডিজাইন করার থেকে। কারন বায়ার প্রথমেই অনেক কিছু দেখবে না যে আপনি ডিজাইন এ গ্র্যাডিয়েন্ট ব্যবহার করেছেন কিনা, ড্রপ শেডো দিয়েছেন কিনা, প্রতিযোগিতায় বায়ার প্রতিটা ডিজাইন এক ঝলক দেখে যায় যে সেটা তার কোম্পানির কাজের সাথে ম্যাচ করছে কিনা যেটা কে bird’s eye view বলা যেতে পারে।

বায়ার আপনার ডিজাইন একজন ডিজাইনার এর দিক দিয়ে দেখবে না। মনে রাখবেন বায়ার আপনার ডিজাইন এর ছোট খাটো ব্যাপার হয়তো একদম ই দেখবে না, সে শুধু প্রথমে দেখবে যে ডিজাইনটা তাদের জন্য ঠিক আছে কিনা। তাই একটা ডিজাইন তাড়াতাড়ি করুন, সাবমিট তাড়াতাড়ি করুন, ফিডব্যাক তাড়াতাড়ি নেন জিতুন, বিস্তারিত কাজ করবেন যখন বায়ার সেটা পছন্দ করবে।

যখন সময় হবে তখন প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসেন

আমরা একটা ব্যাপার জানি যে একটা প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসা হলো হেরে যাওয়া, এটা সুপার হিরো দের ক্ষেত্রে হতে পারে কিন্তু আমরা তো সুপার হিরো না তাই আমাদের প্রয়োজন হবে সময় মত সরে আসা।

কিন্তু ডিজাইন থেকে সরে আসা কেনো এত গুরুত্বপূর্ণ?

ধরেন আপনি একটা ডিজাইন প্রতিযোগিতা যেমন ৯৯ ডিজাইন খুব খারাপ ভাবে শুরু করলেন। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে ৩ অথবা ৪ রেটিং পেলেন। সেখানে আরো ডিজাইনার আছে যারা আপনার থেকে ভালো করছে কিন্তু আপনি সরে আসতে চাচ্ছেন না যখন আপনার একটা ভালো রেটিং আছে। তাই আপনি আপনার আপনার সব রাগ এবং জিদ এর মাধ্যমে চেষ্টা করবেন প্রতিযোগিতা জিতার জন্য। কিন্তু আপনি জিতলেন না আর দেখলেন যে আপ্ন আর থেকে অনেক কম কষ্ট করে কেউ জিতে গেছে, তাহলে আপনার মধ্যে হতাশা চলে আসবে।
এখন অন্যভাবে একটু চিন্তা করেন, আপনি একটা প্রতিযোগিতা খারাপ ভাবে শুরু করলেন, তাই সেটাতে আর সময় না দিয়ে আপনি আরও দুইটা নতুন প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন, একটা প্রতিযোগিতা হয়তো আপনার ভালো হলো না কিন্তু আর একটায় আপনি জিতে গেলেন খুব বেশি পরিশ্রম ছাড়াই।
আমি মনে হয় বুঝাতে পেরেছি যে আপনি যদি একটা প্রতিযোগিতায় ভালো না করেন ভালো হবে সেখান থেকে সরে আসা, কারন যেখানে বায়ার আর অন্য ডিজাইনার আছে সেখানে আপনি একাটার পর একটা ডিজাইন সাবমিত করে যাবেন নিজের ডিজাইন এর মান উন্নত করার জন্য এরকম চিন্তা করার দরকার নেই, আমার অন্তত তাই ই মনে হয়। একাহ্নে একটা ব্যাপার ই দেখার বিষয় সেটা হচ্ছে বায়ার যেটা চাচ্ছে আপনি সেটা দিতে পারছেন কিনা। সেটা অন্য দশ জনের কাছে ভালো না ও লাগতে পারে কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। বায়ার এর ভালো লাগাটাই যথেষ্ট।

ফাইভার নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর

 

আরিফুল ইসলাম

প্রশিক্ষক, গ্রাফিক ডিজাইন

 

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *