ডিজাইন যারা জানেন না, তারা ও ডিজাইন করবেন এবার

ডিজাইন যারা জানেন না, তারা ও ডিজাইন করবেন এবার

সুখবর হচ্ছে আপনি যদি আপনার ব্লগ এর জন্য অথবা ফেসবুক ইউটিউব এর জন্য কোন ডিজাইন করতে চান আমার মনে হয় না তার জন্য আপনার কোন ট্রেনিং করার দরকার আছে। এখানে অনেকগুলা টিপস দিতে চেস্টা করলাম যেগুলা যারা ডিজাইনার না তাদের জন্য বেশি উপকারি হবে

চমৎকার কালার প্লেট দিয়ে শুরু করেন

এটা খেয়াল করেছেন কি যে বেশির ভাগ ডিজাইন দেখতে সুন্দর লাগে শুধু মাত্র চমৎকার কালার এর জন্য। আসলেই কিন্তু কালার একটা ডিজাইন অনেক কিছু। অনেক কিছু।
অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে আপনি কালার নির্বাচন করতে পারেন, একটা কোড নিবেন সেটা ডিজাইন এ অ্যাপ্লাই করবেন নিচে লিঙ্ক দিচ্ছি ওয়েব সাইটগুলা থেকে ঘুরে আসুন, তবে লেখাটা পুরাটা পরবেন আশা করি।
http://www.colourlovers.com/palettes/
https://coolors.co/
https://color.adobe.com/
এখানে ক্যাটাগরি ভাবে কালারের থিম দেয়া আছে আপনি আপনার ডিজাইন এর ক্যাটাগরি এর সাথে মিল রেখে এখান থেকে কালার নির্বাচন করুন। অনেক সহজ।

 

অনেক ফন্ট ব্যবহার করার দরকার নাই

এক কাজ করবেন একটা ডিজাইন ২টার বেশি ফন্ট ব্যবহার করবেন। আবার সেই দুইটা এক ই ফন্ট রাখার চেস্টা করবেন তাহলে ফন্ট কম্পোজিশন নিয়ে ও অনেক বেশি চিন্তা করার দরকার হবে না। হেডার এ একটা ফন্ট ব্যবহার করেন আর বডিতে আর একটা।

ডিজাইন জমান

যখন ফেসবুক এ ঘুরেন কত ডিজাইন ই তো চোখের সামনে আসে, সেগুলি সেভ করে কম্পিউটার এ রেখে দেন। আপনার কাছে যেগুলি ভালো লাগবে সেগুলি রাখেন। যখন সময় মানে যখন ডিজাইন করতে বসবেন ফাইলগুলা ওপেন করেন, দেখেন সেখান থেকে কোন আইডিয়া নেয়া যায় কিনা। পুরাপুরি কপি করবেন না আইডিয়া নেন অথবা ৪-৫ টা ডিজাইন মিলিয়ে একটা ডিজাইন তৈরি করেন। আপনার আসল কাজ তো ডিজাইন করা না তাই জত সহজে একটা কাজ করে নেয়া যায়।

ডিজাইন এ খালি জায়গা রাখেন

যারা ডিজাইনার না তাদের মধ্যে একটা ব্যাপার থাকে যে তারা খালি জায়গা রাখতে চায় না ডিজাইন এ। তাদের কথা হচ্ছে এতো জায়গা পড়ে আছে কাজে লাগাও। কাজে তো অল্প কথাতে ও লাগানো যায়।
ডিজাইন এ খালি জায়গা রাখাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন একটা ডিজাইন এ অনেক কিছু দিবেন তখন যে ডিজাইন টা দেখবে সে কনফিউসড হয়ে যেতে পারে যে সে কি দেখবে। ধরেন আপনি ইউটিউব এর জন্য একটা থাম্বনেইল বানাচ্ছেন। সেখানে আপনার ভিডিও এর বিষয় লিখে দিলে ই কিন্তু যথেষ্ট আমার কাছে তাই মনে হয়। সেখানে আজাইরা জিনিস লেখার দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। তাই ডিজাইন এ খালি জায়গা রাখেন, ডিজাইন দেখতে অনেক সুন্দর লাগবে। আপনি যদি দেখতে চান কিভাবে জায়গা কাজে লাগানো হয় খালি জায়গা রেখে তাহলে নিচের ছবিটা দেখতে পারেন

আপনার অবজেক্ট কে সঠিক এলাইন এ রাখেন

অনেক ডিজাইন এ দেখি একটা লাইন এক জায়গায় নিচের লাইন শুরু হয়েছে উপরের লাইন যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে। এলাইন ঠিক না করে করা একটা বড় ভুল তাই এলাইন ঠিক মত করেন। আপনার হেডিং আর তার নিচের লাইন এর ফন্ট এক হবে না কিন্তু এলাইন ঠিক রাখতে হবে। নিচের ছবি থেকে দেখে নেন।

আইকন ব্যবহার করেন

যেমন ধরেন বিজনেস কার্ড। আগে “email” “Phone” এরকম ভাবে লেখা হতো এখন কিন্তু খুব কম এরকম ভাবে লেখা হয়। আইকন ব্যবহার করা হয় এখানে। ইমেইল এর আইকন হিসেবে মোবাইল এর ম্যাসেজ এর মত একটা আইকন, ফোন এর আইকন হিসেবে মোবাইল এর আইকন। আপনার ডিজাইন ও তাই করেন। ফেসবুক পেজের অ্যাড্রেস দিবেন ফেসবুক এর লোগো দেন এরপর আপনার পেজের ইউ আর এল দিয়ে দেন অন্য জায়গায় ও এক ই ব্যাপার।

ডিজাইন রিপিট করেন

তার মানে এই না যে হুবুহু আগের ডিজাইন ই দিয়ে দেন। ধরেন আপনি ফেসবুক অ্যাড এর জন্য একটা ডিজাইন করেছেন, সেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়েছেন, ছবি দিয়েছেন, লেখা দিয়েছেন সুন্দর করে সাজিয়েছেন। পরের ডিজাইন এ একদম সাদা থেকে শুরু করার দরকার নাই। আগের ডিজাইন থেকে ই একটা ডিজাইন নেন, ছবি পরিবর্তন করেন, লেখা পরিবর্তন করেন, চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড এর কালার পরিবর্তন করতে পারেন তবে এভাবে কাজ করলে আপনার কাজ অন এক সহজ হয়ে যাবে।

এক ই ফন্ট ফ্যামিলি রাখার চেস্টা করেন

আগে বলেছিলাম দুইটার বেশি ফন্ট রাখার দরকার নাই তার মানে এই না যে একটা ফন্ট হচ্ছে Arial আর একটা হচ্ছে Impact দুইটা সম্পূর্ণ দুই রকমের ফন্ট ভালো লাগবে না তাই এক ই ফ্যামিলির ফন্ট ব্যবহার করেন। Arial ব্যবহার করলে দেখবেন সেখানে বিভিন্ন স্টাইল আছে যেমন Arial Black, Arial regular, Arial italic চেস্টা করেন এগুলার মধ্যে ই রাখার জন্য।নিচের ছবি দেখলে আরো ভালো বুঝবেন আশা করি।

 

কনট্রাস্ট এর ব্যবহার করুন

চেস্টা করুন কনট্রাস্ট এর ব্যবহার করতে, এটা ডিজাইন এ একটা “Attidute” যোগ করে এবং নির্দিষ্ট কোন অবজেক্টকে ফুটিয়ে তোলে যেমন আপনি যদি কোন একটা লেখার উপর বেশি জোর দিতে চান, মনে করেন এটা দর্শক আগে পড়ুক তাহলে সেটাতে কনট্রাস্ট দিতে পারেন অন্য কিছুর থেকে বেশি। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে দিবেন। কন্টট্রাস্ট বলতে বুঝাতে হচ্ছে কোন কিছুর উপর জোর দেয়া, কালার ব্যবহার করলে সেটা লাইট কালার হতে পারে যেমন সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এ লাল কালার চমৎকার কনট্রাস্ট যোগ করে, আবার আপনি ফন্ট এর ক্ষেত্রে ও এটা করতে পারেন, আপনি যেটা একটু আলাদা করতে চান সেটার ফন্ট অন্য রকম দেন, বড় করে দেন।

লেখার পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ড লক্ষ্য করুন

এটা অনেক দেখি, যারা নতুন ডিজাইন করে তারা এটা করে পিছনে অনেক কালারফুল ব্যাকগ্রাউন্ড তার উপর লেখা, ঠিক মত লেখা বুঝাই যায় না। তাই যেখানে লেখা দিবেন চেস্টা করবেন সেখানে অপাসিটি কমিয়ে দিতে অথবা কোন শেপ ব্যবহার করতে। আপনি একটা আকাশ ছবিতে কালো লেখা দেন সমস্যা নাই কিন্তু যখন সেটা এমন ছবি যেখানে অনেক কালার সেখানে সাধারন ভাবে লেখা দিলে লেখা বুঝা যাবে না বলা যায়। নিচের ছবি লক্ষ্য করেন

কিসের ডিজাইন করছেন

কিসের ডিজাইন করছেন এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একদম নিজের জন্য কল্রে সেটা ভিন্ন কথা কিন্তু যখন সেটা কোন দর্শক এর জন্য করছেন আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার দর্শক কারা, তারা কি ধরনের রঙ, কি ধরনের ছবি পছন্দ করবে। ইত্যাদি ব্যাপার ভেবে ডিজাইন করেন আশা করি ডিজাইন ভালো হবে।

কিসে করবেন ডিজাইন

আপনি যদি ফটোশপ আর ইলাস্ট্রেটর এর বেসিক কাজ জেনে থাকেন তাহলে খুব ভালো না জানলে ও সমস্যা নাই আপনি সোশ্যাল মিডিয়া সব ধরন ডিজাইন এর টেমপ্লেট পাবেন canava.com এ। লোগো বানাতে চাইলে logomakr.com এ কাজ করতে পারেন। সফটওয়্যারগুলা অনেকটা প্লাগ অ্যান্ড প্লের মত, সব ওখানে আছে আপনি শুধু ড্রপ করবেন।

 

লিখেছেন

আরিফুল ইসলাম

 

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *