golden-ratio-on-graphic-design-1024x512

গ্রাফিক ডিজাইন এ গোল্ডেন রেশিওর ব্যবহার

গ্রাফিক ডিজাইন এ গোল্ডেন রেশিওর ব্যবহার

কাল সারাদিন গোল্ডেন রেশিও নিয়ে বসে ছিলাম ইন্টারনেট এর সামনে। গ্রাফিক ডিজাইন এ কিভাবে গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করা যায় সেটা শিখার জন্য। জীবনে অনেক কিছু শিখেছি কিন্তু কাল যা শিখলাম আর জানলাম সেটার মত আনন্দ আর কোথাও পাই নাই।

গোল্ডেন রেশিও কোথায় দেখা যায়

একটু বিস্তারিত লিখি। জানি না আমি যতটুকু বুঝেছি সেটা বুঝাতে পারবো কিনা

প্রথম কথা হচ্ছে গোল্ডেন রেশিও সৃষ্টির প্রায় সব জায়গায় আছে, প্রকৃতি মানুষের শরীর,মানুষ এর মুখমণ্ডল এ গোল্ডেন রেশিও আছে, একটা আঙ্গুল এর কড় থেকে আরেকটা কড়েও গোল্ডেন রেশিও দেখা যায়, মহাকাশ, ঘূর্ণি ঝর এর ঘূর্ণিতে, সূর্যমুখী ফুল এর মধ্যে এবং বিভিন্ন জায়গায়। অনেক বিখ্যাত শিল্পী তাদের কাজে এই গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করেছে।বিখ্যাত পেইন্টিং মোনালিসাতে ও গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করা হয়েছে, পিরামিড বানাতে ও গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। নিচের ছবিটা দেখেন ৩৪ এবং ২১ যেটাকে ভাগ করলে দাড়ায় ১.৬১৯, তার মানে গোল্ডেন রেশিও। আরো কিছু ছবি দেয়া হলো যেখান থেকে গোল্ডেন রেশিও কোথায় আছে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে ধারনা করছি।

 

তাহলে কি এই গোল্ডেন রেশিও

একটা অনুপাত ১ঃ ১.৬১৮। অর্থাৎ আপনি যদি একটা শেপ নেন ১ আর একটা হবে ১.৬১৮, তাহলে একটা শেপ আর একটা শেপ এর থেকে একটু বড় হবে, আর এই দুইটা শেপকে একসাথে জোড়া দিলেই আপনি পেয়ে যাচ্ছেন গোল্ডেন রেশিও। এখন কথা হচ্ছে যে দুইটা শেপ ই কি? না কিন্তু। আপনি একি ভাবে এটাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করতে পারবেন। প্রথমে যে দুইটা শেপ পেলেন, সেই দুইটা শেপকে আপনি আবার আলাদা আলাদা ভাবে এক ই নিয়ম এ ভাগ করতে পারবেন। নিচের ছবিতে বাপারটা আরো ভালো করে বুঝতে পারবেন আশা করি।

 

গোল্ডেন রেশিও আসলো কোথা থেকে

এখানে একটু বলি গোল্ডেন রেশিও আসলো কোথা থেকে। অনেক দিন আগের কথা, লিওনার্দো ফিবনাক্কি নামের একজন মানুষ প্রকৃতি, মানুষ এবং সৃষ্টির বিভিন্ন জায়গায় গনিত দেখতে পেলো, একটা রাশিমালা দেখতে পেলো, যেটার নাম এখন ফিবনাক্কি রাশিমালা। এটার নিয়ম হচ্ছে আগের দুইটা সংখ্যা যোগ করতে হবে যেমন ০,১, ০ আর এক যোগ করলে ১ হয়, এরপর ১ আর ১ যোগ করলে ২ হয়, এরপর ২ আর ১ যোগ করলে ৩ হয়, ৩ আর ২ যোগ করলে ৫,এভাবে ৮, ১৩, ২১, ৩৪,৫৫,৮৯ এভাবে চলতে থাকে, আপনি কিন্তু আপনার ডিজাইন এর লেআউট ফিবনাক্কি তেও করতে পারেন। তাহলে ১.৬১৮ কিভাবে আসলো। ফিবনাক্কির একটা সংখ্যা থেকে আগের সংখ্যা ভাগ করতে হবে।
দেখেন আমি যদি ৮ আর ১৩ ভাগ করি ০.৬১৫৩৮৪৬১৫ এরকম একটা সংখ্যা আসলো, ৮৯ আর ৫৫ ভাগ করলে ১.৬১৮১৮১৮১৮ এরকম একটা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে যেটাকে গোল্ডেন রেশিও বলা হচ্ছে।  নিচে ফিবনাক্কি সিকুয়েন্স এর একটা ছবি দেয়া হলো।

 

কেনো ডিজাইন এ গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করবো

প্রশ্ন হচ্ছে ডিজাইন এ কেনো গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করবো, চিন্তা করেন যে রেশিও মানব দেহে, প্রকৃতিতে ব্যবহার করে এতো সুন্দর সুন্দর জিনিস সৃষ্টি করা হয়েছে, বিখ্যাত বিখ্যাত শিল্পী এই গোল্ডেন রেশিও ব্যবহার করেছে।  তাহলে আমরা যদি এটা গ্রাফিক ডিজাইন এ ব্যবহার করি অথবা ওয়েব ডিজাইন এ ব্যবহার করি সেটাও কি সুন্দর হবে না? আর আমাদের মস্তিষ্ক এই গোল্ডেন রেশিও খুব ভালো করে চেনে তাই এটা ব্যবহার করে ডিজাইন করলে সেটা খুব ভালো ভাবে গ্রহন করে।মজাটা কোথায় জানেন আমরা কিন্তু করছি এই কাজ, হয়তো না জেনে ই করছি। কিন্তু করছি। ওয়েব লেআউট এর ব্যাপার দেখেন, সেখানে মুল বক্সটা কিন্তু সাইডবার এর থেকে বড় থাকে, তাহলে কি দাঁড়ালো এখানে কিন্তু আমরা গোল্ডেন রেশিওর মত কিছু একটা করলাম। গোল্ডেন রেশিওতে একটা বক্স বড় হবে আর একটা বক্স এর তুলনায়। এখন আমরা হয়তো মেপে কাজটা করি না করলে হয়তো আরও সুন্দর লাগবে।

 

একটা লে আউট এর উদাহারন দেই।

আপনি একটা ওয়েব লে আউট নিলে ধরেন ৯৬০ পিক্সেল। এখানে আপনি কন্টেন্ট এর জন্য একটা জায়গা রাখবেন, সাইডবার এর জন্য ও জায়গা রাখবেন। তাহলে ৯৬০পিক্সেল কে ১.৬১৮ দিয়ে ভাগ দেন। ৫৯৩ পিক্সেল পেলেন, সেটা আপনার কন্টেন্ট বার আর বাকি যেটা থাকে সেটা সাইডবার এ রাখে ৩৬৬ পিক্সেল। আবার আপনি যদি কন্টেন্টবার কে ভাগ করতে চান করেন আগের মত করে। ৫৯৩ কে ভাগ দেন ১.৬১৮ দিয়ে ৩৬৬ পিক্সেল, ৩৬৬ পিক্সেল ভাগ করলে ৩৬৬ পিক্সেল ভাগ ১.৬১৮ এইভাবে আপনি লে আউট তৈরি করে ডিজাইন করেন, তারপর আগের লে আউট এর সাথে মিলান, দেখবেন গোল্ডেন রেশিওর টা ভালো লাগবে, ভালো লাগার কথা।

শুধু ওয়েব লে আউট না আপনি বিজনেস কার্ড, ফ্লাইয়ার, ব্রশিউর ইত্যাদি ডিজাইন এরকম লে আউট করে ডিজাইন করতে পারেন।

 

পড়ছি এখনো এই ব্যাপারটা নিয়ে। যতটুকু বুঝেছে শেয়ার করলাম, আপনারা ও শেয়ার করেন, এক সাথে শিখি, ভালো হবে, ব্যাপারটা একটু জটিল কিন্তু চেষ্টা করলে সব ই সম্ভব।

 

আরিফুল ইসলাম

প্রশিক্ষক, গ্রাফিক ডিজাইন

 

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *