গ্রাফিক ডিজাইন এ ফন্টের ব্যবহার করবেন কিভাবে- চমৎকার টিপস

গ্রাফিক ডিজাইন এ ফন্টের ব্যবহার করবেন কিভাবে- চমৎকার টিপস

 গ্রাফিক ডিজাইন এ কি ধরন এর ফন্ট ব্যবহার করবেন, কি ভাবে লিখবেন, কতগুলি ফন্ট ব্যবহার করা যাবে। বোল্ড দিবেন নাকি লাইট, আন্ডারলাইন দিবেন নাকি দিবেন না এই বাপারগুলি অনেক দ্বিধা তৈরি করে তাই এই এই লেখাটা। আশা করছি এটা পরলে গ্রাফিক ডিজাইন এ লেখার ব্যাপার এর অধিকাংশ সমস্যা দূর হয়ে যাবে

 

কিছু পয়েন্ট দিচ্ছি যা না করার চেস্টা করবেন যারা গ্রাফিক ডিজাইন করছেন অথবা যারা করতে চাচ্ছেন আশা করছি সবার জন্যই কাজে লাগবে।

সব কিছুতে HELVETIA “ ফন্ট ব্যবহার করেন

 

ঠিক আছে বুঝতে পারছি অনেক জনপ্রিয় একটি ফন্ট এটি সব সময়ের জন্য। আর এটাই হয়ত এই ফন্ট এর পতন এর পিছনের কারন।আর যতই জনপ্রিয় ফন্ট হোক আপনাকে সব অধিকাংশ সময় কেন এটাই ব্যবহার করতে হবে। চেষ্টা করুন সেখান থেকে বের হয়ে আসার জন্য, চেষ্টা করুন এক এ ধরনের ফন্ট বিভিন্ন ডিজাইন এ ব্যবহার করার অভ্যাস পরিহার করতে।শুধু মাত্র উদাহারন হিসেবে rade Gothic, Formata, Futura, Antique Olive, Eurostile এই ফন্টগুলি ব্যবহার করে দেখেন।

লেখাকে ডানে বামে এবং উপরে নিচে টানা

 

অনেকে ডিজাইন এ জায়গা ফিল করার জন্য লেখাকে টেনে বড় করে, চারপাশ দিয়ে না, ডানে বামে অথবা উপরে নিচে সেটা করলে যা হয় সেটা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।এই কাজগুলি ডিজাইনকে নষ্ট করে দেয়। আপনি যে ফন্ট ব্যবহার করলেন সেই ফন্ট আর সেই ফন্ট রইল না তার চেহারা হারিয়ে ফেলল। লেখার পর জায়গা যদি বেশি থাকে তাহলে একটা অক্ষর থেকে আর একটা অক্ষর এর গ্যাপ বাড়ানো যেতে পারে কিন্তু লেখাকে এইভাবে টেনে নষ্ট করার কোন মানে হয় না।

দুই বার করে “Enter” দেয়া, এক লাইন থেকে আর এক লাইন এ

দুই বার করে ইন্টার প্রেস করলে লেখার মধ্যে অনেক গ্যাপ থেকে যায়। একটা লাইন থেকে আর একটা লাইন এ গ্যাপ থেকে যায় যার ফলে লেখাগুলিকে ছাড়া ছাড়া মনে হয়, একটার সাথে আর একটার কানেকশন থাকে না। তাই চেষ্টা করবেন লাইন এর মাঝে অতিরিক্ত গ্যাপ না দেয়া।

দুইটা করে স্পেস দেন প্রতিটা লেটার এর পাশে?

 

আপনি কি প্রতিটা শব্দের পাশে দুইটা করে স্পেস দিচ্ছেন। ভাবছেন কাছাকাছি হয়ে গেলে পরতে সমস্যা। টা না কিন্তু। একটা শব্দ থেকে আর একটা শব্দতে একবার এর বেশি স্পেস দেয়া ভুল।একটা শব্দ থেকে আর একটা শব্দর মধ্যে একটাই স্পেস হবে।

লিখার পিছনে কালার দিয়ে হাইলাইট করেন?

 

আমি ধরে নিলাম আপনি সফটওয়্যার এ এই কাজটা শিখেছেন তার মানে কিন্তু এই না আপনাকে এগুলি ব্যবহার করতে হবে। এরকম করলে লিখাটা থেকে পাঠক এর মনোযোগ চলে যাবে। আপনি অন্য ভাবে হাইলাইট করেন, আপনার শিরোনাম অনেক সুন্দর হতে পারে।লিখার মধ্যে সাদা স্পেচ রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।বিভিন্ন ধরনের ফন্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। উপরের ছবি দেখেন নিজে ই পার্থক্য বুঝতে পারবেন, কিভাবে সাদা স্পেচ লিখাটাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে।

সব লেখায় বর্ডার ব্যবহার করেন

 

যারা সব লেখায় বর্ডার ব্যবহার করেন তাহলে আসলে নিশ্চিত থাকে না তাদের ডিজাইন নিয়ে। আপনাকে সাদা স্পেস ব্যাবহার করতে হবে। তাহলে আসলেই ভালো কিছু হবে।

বুলেট হিসেবে “-“  Hyphen ব্যবহার করা

 

ডিজাইন এ কোন কিছু পয়েন্ট আকারে দেয়ার প্রয়োজন হলে আপনি hyphen ব্যবহার না করে ডট অথবা এই ধরন এর বুলেট ব্যবহার করার চেস্টা করুন

আপনি কি লিখায় Emboss অথবা drop shadow ব্যবহার করেন

 

আপনি কি লেখায় হাল্কা একটা drop shadow অথবা emboss ব্যবহার করেন যেটা আপনার সফটওয়ারে আছে? যদি করেন তাহলে সেগুলি করা এখনি বন্ধ করেন। এগুলি করলে আপনার বায়ার বুঝে যায় আপনার ডিজাইন এর হাত অনেক কাঁচা।  ডিজাইন এর মধ্যে রংধনুর Gradient ব্যবহার করা, Reflections ব্যবহার করা Comic sans ফন্ট ব্যবহার করা একদম ই আপনাকে প্রোফেসনাল ডিজাইন থেকে দূরে নিয়ে যাবে। তাই এগুলি বন্ধ করে সাধারণ ডিজাইন এর দিকে মনোযোগ দেন আর এটা ভাববেন না সেটা করা অনেক কঠিন আর আপনারটা করা অনেক সহজ।

লেখার নিচে Underline ব্যবহার করা

গ্রাফিক ডিজাইন এ নিয়ম এ underline ব্যবহার এর কথা নিষেধ করা হয়েছে। শুধু মাত্র ওয়েবসাইট এর হাইপারলিঙ্ক এর ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোথাও না।

সব লিখা বড় হাতের অক্ষর

সব লিখাতে বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করলে সেটা পরতে অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। কারন আমরা কোন শব্দ অক্ষর দিয়ে চিনি না, চিনি সেই শব্দের শেপ দিয়ে। যদি একটা শব্দের শগুলি অক্ষর বড় হাতের থাকে তাহলে সব অক্ষর এর শেপ এক সমান হয়ে যায় আর সেজন্য পাঠকদের লিখা বুঝতে হলে একটা একটা অক্ষর পরে বুঝতে হয়ত অনেকটা বানান করা পরার মতো অবস্থা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য বড় হাতের লিখা দেয়া যায় কিন্তু বুঝতে হবে সেটা কোথায় দিচ্ছেন, ভালো হয় লিখাতে বোল্ড ব্যবহার করলে, বিভিন্ন ধরনের ফন্ট ব্যবহার করলে।আরও যদি অন্য রকম করতে চান তাহলে কিছু শব্দকে উল্টিয়ে দিয়া দেখতে পারেন। তবে এটা যেন আবার অবভাশ না হয়ে যায়

বানান ঠিক না করা, গ্রামার এ ভুল করা

বানান ঠিক না করা এবং গ্রামার এ ভুল এ করা অনেক বড় একটা ভুল ডিজাইনদের জন্য। তাই এদিকে খুব ভালো ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

 একটা অক্ষর থেকে আর একটা অক্ষরের গ্যাপ

অনেকেই দেখা যায় ডিজাইনকে অন্যরকম করার জন্য একটা অক্ষর থেকে আর একটা অক্ষর এর গ্যাপ দেয় না বললেই চলে। জেতা উচিত না। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে গ্রাফিক ডিজাইন এ ডিজাইন সুন্দর দেখা যাচ্ছে শুধু এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার সেই ডিজাইন দর্শক বুঝতে পারছে কিনা। পরতে গেলে সহজে পরতে পারছে কিনা। যখন একটা শব্দ থেকে আর একটা শব্দের মধ্যে গ্যাপ থাকে না তখন সেটা পরতে সমস্যা হয়, তাই একটা অক্ষর থেকে আর একটা অক্ষর এ গ্যাপ রাখতে হবে।

একটা অক্ষর থেকে আর একটা অক্ষর এ গ্যাপ সমান ভাবে রাখতে হবে

একটা অক্ষর থেকে আর একটা অক্ষর এ গ্যাপ যেমন রাখতে হবে তেমনি সেই গ্যাপ যেন সব জায়গায় সমান থাকে সেদিকে ও লক্ষ্য রাখতে হবে। ডিজাইনকে আকৃষ্ট করার জন্য, তথাকথিত ক্রিয়েটিভ করার জন্য এমন কিছু করা যাবে না যেখানে আপনার মুল ডিজাইন ই নষ্ট হয়ে যায় আর আপনি জানতে ও পারেন না কেন আপনার ডিজাইন বাতিল হল।

   আরও কিছু ব্যাপার যেগুলি করা উচিত না সেগুলি ছোট করে পয়েন্ট আকারে দিয়ে দিচ্ছি

১. এক ডিজাইন এর মধ্যে ৩টার বেশি ফন্ট ব্যবহার করবেন না

২. কলাম করে যদি ডিজাইন করেন তাহলে কলাম এর স্পেস এক রকম রাখতে হবে

৩. মুভি পোস্টার এ অনেক বড় করে লাল রঙের হেডিং না দিলে ভালো। অনেক তো হল।

আশা করছি ভালো লেগেছে। একটু হলে ও হয়ত কাজে দিবে। আর সেটাই আমাদের সফলতা। আমরা পরবর্তীতে গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে আরও লিখা দেয়ার চেষ্টা করব,এখন মনে হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইনারদের কিছু খারাপ অভ্যাস নিয়ে একটা লিখা দিব, সেটাও কাজে আসবে আশা করি। আর আপনারা যদি জানান আপনাদের জন্য কোন লিখাগুলি বেশি কাজে লাগবে তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হয় আমরা সে অনুযায়ী লিখা দেয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *