কত দামি কম্পিউটার লাগবে গ্রাফিক ডিজাইন করতে?

কত দামি কম্পিউটার লাগবে গ্রাফিক ডিজাইন করতে?

যারা গ্রাফিক ডিজাইন শিখেন অথবা করেন, তারা অনেকেই বুঝতে পারেনা যে কি ধরনের কম্পিউটার দিয়ে কাজ করলে ভাল হয়, কত দামের কম্পিউটার কিনলে প্রফেশনাল গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ করা যাবে। অনেকেই পুরাতন কম্পিউটার আপগ্রেড করতে চান।


গ্রাফিক ডিজাইন এ কি কাজ করবেন সেটা ঠিক করুন

বের করুন আপনি গ্রাফিক ডিজাইন কোন কাজ এর জন্য করবেন।আপনি যদি মাত্র গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু করেছেন অথবা মাত্র প্রফেশনালি কাজ শুরু করেছেন তাহলে যেটা এখন আছে সেটা দিয়ে ই হয়তো সম্ভব, আপনি যখন সম্পূর্ণভাবে প্রফেশনালি কাজ শুরু করবেন তখন আপনাকে কম্পিউটার আপগ্রেড করতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে এমন ও না আপনার খুব উচ্চমানের কম্পিউটার লাগবে। আপনি ঠিক করেন আপনি কোন কাজটি করবেন। আপনি যদি ফতশপে কাজ করেন তাহলে আপনাকে ফটো এডিটিং, ওয়েব টেমপ্লেট এর কাজ বেশি করতে হবে আর সে ক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার এর মান অনেক ভাল হতে হবে আর আপনি যদি লোগো ডিজাইন, প্রিন্ট ডিজাইন এর কাজের কথা চিন্তা করেন তাহলে আপনাকে অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটর অথবা করাল ড্র এর কাজ বেশি করতে হবে যার জন্য খুব উচ্চমানের কম্পিউটার প্রয়োজনীয় নয়।


গুরুত্ব দিন র‍্যামকে প্রসেসর এর থেকে ও বেশি

গ্রাফিক ডিজাইন এ ফটোশপ অনেক জনপ্রিয় একটা সফটওয়্যার আর ফটোশপ হল “Memory ‘Hog” যার অর্থ হল যে সফটওয়্যার চালাতে মেমরি বেশি প্রয়োজন হয়। তাই  আপনি যদি বেশি করে র‍্যাম নিয়ে নেন।  ফটোশপ সব সময় অনেক ডাটা নিয়ে কাজ করে আর এই ডাটাগুলো কম্পিউটার র‍্যাম এ জমা থাকে তাই র‍্যাম এর স্পেস বেশি থাকা দরকার। আপনি যখন অনেক বড় বড় ফাইল নিয়ে কাজ করবেন যেমন আপনার ক্লাইন্ট আপনাকে এমন ও ছবি দিবে যেগুলির এক একটার সাইজ ৫০ মেগা থেকে শুরু করে ১৫০ মেগাবাইট পর্যন্ত অথবা তার ও বেশি হতে পারে, তারপর আপনি যখন সেই ছবি এডিটিং করা শুরু করবেন সেখানে আরও কিছু উপাদান যোগ হলে আপনার ফটোর সাইজ এর পরিমান আরও বেড়ে যাবে আর আপনার র‍্যাম যদি কম হয় তাহলে প্রোগ্রাম হয়ে যাবে স্লো, সেটা আপনার এবং বায়ার কারো জন্য ভাল হবে না, তাই র‍্যাম এর স্পেস বেশি করে নিন। ভালো হয় কাজের উপর নির্ভর করে আপনার র‍্যাম ৮-১৬ গিগাবাইট এর মধ্যে নেয়ার চেষ্টা করেন।


প্রসেসর ও হতে হবে ভাল মানের

গ্রাফিক ডিজাইন করার জন্য প্রসেসর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।  প্রসেসর যেহেতু কম্পিউটার এর বেশির ভাগ কাজ পরিচালনা করে তাই প্রসেসর এর ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে নেয়া প্রয়োজন । আপনার প্রসেসরের কার্যক্ষমতা যদি কম হয় তাহলে আপনি যখন অনেকগুলি ফাইল একসাথে ওপেন করে কাজ করতে চাইবেন আপনার কম্পিউটার এর গতি কমে আসবে, এবং কম্পিউটার হ্যাং ও করতে পারে তবে মনে রাখবেন অনেক ভাল প্রসেসর অনেক দাম পড়ে যাবে তাই প্রথমে র‍্যাম এর ব্যাপারটি নিশ্চিত করে প্রসেসর এর ব্যাপার এ সিদ্ধান্ত নিন।


আলাদা ভাবে গ্রাফিক কার্ড? আপনার সিদ্ধান্ত

বাজেট ভাল হলে আপনি আলাদা করে গ্রাফিক কার্ড লাগাতে পারেন কিন্তু গ্রাফিক ডিজাইন এর সাথে গ্রাফিক কার্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ না।  আপনি থ্রিডি এনিমেশন অথবা ভিডিও এডিটিং এর দিকে না গেলে মাদার বোর্ড এর সাথে যে গ্রাফিক কার্ড থাকে সেটাতে ই হয়ে যাবে। তবে আপনি যদি আলাদা গ্রাফিক কার্ড লাগাতে চান তাহলে OpenCL capable GPU, CUDA cores প্রয়োজনীয় না। অ্যাডোব CS6 Mercury ইঞ্জিন নিয়ে এসছে যেটা OpenGL and OpenCL এর কাজ করে। তাই nVidia কার্ড সাথে CUDA cores দরকার নেই।

মনিটর ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ

আপনি সব কিছুই নিলেন ভালো দেখে কিন্তু দেখা গেল আপনার মনিটর এর মান ভাল না তাহলে আসলে কোন লাভ নেই। তাই ভাল কালার সিস্টেম এর মনিটর মিনিমাম ১৯২০x১২০০ পিক্সেল ডাইমেনশন। ২১-২৪ ইঞ্চি সাইজ। কালার কেলিব্রাটর সেট আপ করে নিবেন যদি আপনি প্রিন্ট ডিজাইন এর কাজ করেন, কারন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনি মনিটর এ যে কালার দেখছেন প্রিন্ট করার পর সে রকম কালার পাওয়া যায় না।


 

গ্রাফিক ডিজাইনার জন্য উপযুক্ত কম্পিউটার এর বিভিন্ন পার্টস এর মান এবং মূল্য এর একটি ধারনা দেয়া হল

র‍্যাম
৮ GB র‍্যাম 4000-4500 মধ্যে ভাল ব্রান্ড এর র‍্যাম পাবেন আপনি যদি মনে করেন আপনি ১৬ গিগাবাইট ব্যবহার করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি ৮ গিগাবাইট এর দুইটি র‍্যাম একসাথে ব্যবহার করতে পারেন।

প্রসেসর
গ্রাফিক ডিজাইন এর ক্ষেত্রে 7th generation এর কোর আই ৩  প্রসেসর বেশ ভাল কাজ করবে। দাম ৯০০০-৯৫০০ আপনি ইন্টেল এর বেশ ভাল মানের প্রসেসর পেয়ে যাবেন।

গ্রাফিক কার্ড
গ্রাফিক কার্ড ডিজাইন এর কাজ এর জন্য খুব একটা জরুরি নয় মাদার বোর্ড এর সাথে যেটি থাকে সেটি ই ভালো মত হয়ে যাবে, গ্রাফিক কার্ড বেশি দরকার হয় চলমান কিছু নিয়ে কাজ করলে, দেখবেন যারা গেমার তাদের অনেক হাই রেজুলেশনের গ্রাফিক কার্ড দরকার হয়। আর আপনি যদি থ্রিডি ডিজাইন অথবা ভিডিও এডিটিং এর মতো কাজ করেন তাহলে আপনি আলাদা করে একটি গ্রাফিক কার্ড লাগিয়ে নিতে পারেন গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজের জন্য নিতে পারেন গ্রাফিক কার্ড। আপনি ৩৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে ভাল মানের গ্রাফিক কার্ড পেয়ে যাবেন।

মনিটর
আপনি মার্কেট এ অনেক ব্রান্ড ই মনিটর পাবেন, ভাল হয় ২১-২৪ ইঞ্চি এর মধ্যে মনিটর ব্যবহার করলে কিন্তু সাইজ এর থেকে ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কালার এর ব্যাপারটি। আপনি Samsang অথবা Dell এর মধ্যে ১০-১২ হাজার টাকায় চমৎকার HD monitor পেয়ে যাবেন।

মাদার বোর্ড
মাদার বোর্ড আপনাকে প্রসেসর এর সাথে মিল রেখে কিনতে হবে, আপনি যদি ইন্টেল এর প্রসেসর ব্যবহার করেন তাহলে ইন্টেল এর মাদার বোর্ড ব্যবহার করার কথা আমি বলবো, আপনি ৩০০০-৫০০০ টাকার মধ্যে ভাল মানের মাদার বোর্ড পেয়ে যাবেন।


 

সব মিলিয়ে বলা যায় আপনি যদি ৩০-৩৫ হাজার টাকার মধ্যে গ্রাফিক ডিজাইন এর জন্য চমৎকার কম্পিউটার পেতে পারেন। আর আপনি যদি আপগ্রেড করতে চান তাহলে ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি আপগ্রেড করাতে পারবেন।

পোস্টটি লিখছেন আরিফুল ইসলাম, প্রশিক্ষক, গ্রাফিক ডিজাইন

 

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *