এখন আর কোন বাঁধা নেই- রাজিব আহমেদ। একান্ত সাক্ষাৎকার

এখন আর কোন বাঁধা নেই- রাজিব আহমেদ। একান্ত সাক্ষাৎকার

ই ক্যাব এর শুরুর কথা শুনলাম রাজিব আহমেদ  এর কাছ থেকে ই, ২০১৪ সালের ই ক্যাব এর একদম শুরুর গল্প, উদ্দেশ্য, বাঁধা, সম্ভাবনা ইত্যাদি। আরো অনেক কিছু উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে যেমন রাজিব আহমেদের বিশ্বাস ২০২১ সালে ই ক্যাব ছাড়িয়ে যাবে তারা যতটুকু আশা করে তার থেকে ও বেশি। গত তিন বছরে সব বাঁধা অতিক্রম করে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় ই ক্যাব এর। 

 

টেক প্রো টিউনস – একদম শুরুর গল্পটা কিরকম ছিলো ই ক্যাব এর। 

রাজিব আহমেদ-  ২০১৪ সালে ই কমার্স এর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অথবা লোক মনে করে যে ই কমার্স এর আলদা একটা এসোসিয়েশন হলে সুবিধা হয় অবশ্য ফেসবুক এবং ওয়েবসাইট এ কিছু কোম্পানি ই কমার্স বিজনেস শুরু করেছে, যেহেতু কোন এসোসিয়েশন নেই সেহেতু কোন সমস্যা হলে কোথায় যাবে।

কোম্পানিকে তেমন কেউ বিশ্বাস করে না তাই একটা সংগঠন হলে ভালো হয় সেখান থেকে ই ২০১৪ সালের জুনের ৫ তারিখে আমরা কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম একটা সংগঠন করে ফেলবো, ২০১৪ সালের নভেম্বরের ৮ তারিখে ঘোষণা করা হয় এর মধ্যে ফেসবুক এর পেজ এবং গ্রুপের মাধ্যমে আমরা অনেকে এক সাথে হই। এরপর ২০০৯ সালের ১৮ ই জুলাই আমরা বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ট্রেড এসোসিয়েশন হিসেবে স্বীকৃতি পাই, এটাই ছিলো শুরু দিকের গল্প।

বেশ সংগ্রামের ছিলো কষ্টের ছিলো কারন অনেকেই চায় নি এরকম একটি সংগঠন চালু হোক  কিন্তু আমরা চেয়েছি ই কমার্স এর ব্যাবসায় অনেক ভালো ভবিষ্যৎ আর এখানে সংগঠন না থাকলে অনেক অনিয়ম এবং সমস্যা দেখা দিবে, তাই এটা নিয়ে কাজ করার জন্য একটা ঐক্যবদ্ধ সংগঠন থাকা দরকার।

 

টেক প্রো টিউনস – উদ্দেশ্য কি ছিলো এবং ৩ বছরে কততুকু বাস্তবায়ন হয়েছে?

রাজিব আহমেদ- উদ্দেশ্য ছিলো সাধারন যেটা বললাম, ই কমার্স এ যদি আলাদা কোন সংগঠন থাকে যারা ই কমার্স এর সমস্যা নিয়ে কাজ করবে, সরকারের সাথে কাজ করবে, ই কমার্স কে প্রতিনিধিত্ব করবে।

প্রথম বছর গেছে আমাদের এসোসিয়েশনের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সার্টিফিকেট পেয়েছি, জয়েন স্টকের সার্টিফিকেট পেয়েছি  এবং FBCCI এর মেম্বারশিপ পেয়েছি প্রথম বছরের মধ্যে ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।

যারা ই কমার্স শুরু করেছে তারা বেশির ভাগ ই ঐক্যবদ্ধ হতে চায় নি এমনকি ই ক্যাব কে গুরুত্ব দিতে চায় নি ২য় বছর ছিলো সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে। আর গত এক বছরে আমরা বলতে পারি ই চাব এখন আসলেই আলাদা সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি।

ব্যর্থতা সফলতা দুইটাই ই আছে তবে আমরা মনে করি নতুন একটি সংগঠন হিসেবে আমাদের যে মৌলিক উদ্দেশ্য ছিলো ই কমার্স কে আলাদা সেক্টর হিসেবে গড়ে তোলা, ই কমার্স এ যারা কাজ করছে তাদের একত্রিত করা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে সরকারের সাথে কাজ করা ৩টাতেই আমরা ১০০% সফল।

 

টেক প্রো টিউনস – ২০২১ সালে ই ক্যাবকে কোথায় দেখতে চান?

রাজিব আহমেদ- ২০২১ সালে আমরা ই ক্যাব কে যেখানে দেখতে চাই ই ক্যাব তার থেকে ও অনেক বড় হবে এতে কোন সন্দেহ নাই, এর কারন হচ্ছে ৭১০ টি কোম্পানি ই ক্যাব এর মেম্বার। আর ২০২১ সালে ২০০০ মেম্বার হবে আশা রাখি আর এমন কোন বিজনেস সেক্টর নাই যারা ই ক্যাব এর মেম্বার হবে না, বিশেষ করে গারমেন্টস এবং টুরিজম অনেক কোম্পানি ২০১৮ থেকে ই কমার্স বিজনেস চলে আসবে। সাথে মিনা বাজার, আগোরার মত সুপারশপ গুলো ও ই কমার্স এ আসবে। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন কিছু কারনে যেমন একটা কিছু অনেক বড় হলে অনেক দক্ষ মানব সম্পদের দরকার হয়, এ ক্ষেত্রে বিদেশীদের একটা ভুমিকা অনেক বড় ভাবে চলে আসতে পারে।

 

টেক প্রো টিউনস – বিদেশিরা আসলে কিভাবে তাদের সাথে কাজ করা যাবে

রাজিব আহমেদ- আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে তাদের নিয়ে ও কাজ করা। আর বিদেশিরা আসবেই সেটা মেনে নিয়ে ই সেটাকে কিভাবে আমাদের সুবিধাতে কাজ করা যায় এটা চিন্তা করতে হবে। তবে এটা বাস্তবায়ন করা খুব সহজ না যেভাবে বলা যায় কারন বিদেশিরা অনেক টাকা এবং স্কিলড মানুষ নিয়ে আসবে যা আমাদের ও ভাবে নাই, সেজন্য আমাদের অন্তত ৫-৬ বছরের ভিশন নিয়ে আগানো উচিত।

 

টেক প্রো টিউনস – যারা ই কমার্সের ব্যবসা করছে তারা অনেকেই বলে বাংলাদেশের মানুষ এখনো অনলাইনে কেনার জন্য তৈরি না, এখানে আপনি কি করবেন

রাজিব আহমেদ- আসতে চাচ্ছে না অথবা হতাশ হচ্ছে এ কথাতে আমি একমত না। ইতিমদ্ধে ১০ হাজার ফেসবুক পেইজ আছে, ১ হাজার ওয়েবসাইট আছে আর বেশি দরকার আছে বলে মনে হয় না। নতুন করে আরো আসুক এরকম ও কিছু না আমরা মুলত গুরুত্ব দিচ্ছি ইতিমধ্যে যারা কাজ করছে তারা যেন আরো ভাবে কাজ করতে পারে সেদিকে। পোস্ট অফিসের সাথে চুক্তিটা হয়ে গেলে আরো ভালো ভাবে কাজ করা যাবে

 

টেক প্রো টিউনস – পোস্ট অফিসের সাথে চুক্তির ব্যাপারটা কেমন

রাজিব আহমেদ- পোস্ট অফিসের সাথে চুক্তি হয়েছে ১ বছর আগে, বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষা করা হচ্ছে, এখানে যারা পিওনরা আছে তাদের প্রশিক্ষন দেয়ার চেস্টা করছি, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারের মত ডেলিভারি হয়েছে ঢাকা সহরে কোন রকম পণ্য হারানো অথবা টাকা মার যাওয়ার কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। আমরা আশাবাদি একটু সময় লাগলে ও এটা ভালো ভাবে ই হবে।

 

টেক প্রো টিউনস – আমাজন, আলিবাবা থেকে সারা পৃথিবীর মানুষ পণ্য কিনছে আমাদের এরকম অবস্থায় যেতে কত সময় লাগবে

রাজিব আহমেদ- আমাজন সম্ভবত ১৯৯৬ সালে তারমানে ২১ বছর, আলিবাবা ১৯৯৯ সালে তারমানে ১৮ বছর হয়ে গেছে, আমাদের ১৮ বছর না লাগলে ও আরো ৩ চার বছর লাগবে।

 

টেক প্রো টিউনস – কিছু চাচ্ছেন তবে হচ্ছে না এরকম

রাজিব আহমেদ- সরকারি যারা নিতি নির্ধারক তাদের কাছে একটাই চাওয়া ই কমার্স ব্যবসা হিসেবে না দেখে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে দেখা, বাংলাদেশের কেনাকাটার ব্যাপার যদি দেখেন ঢাকা শহরে সব ধরনের শপিং মল আছে, ঢাকার জন সংখ্যা দেড় কোটি হলে ১০% মানুষ ঢাকায় বসবাস করছে আবার এর মধ্যে ও যেমন যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, গাবতলি ইত্যাদি জায়গার মানুষ টাকা থাকা সত্ত্বেও হাতের কাছে অনেক কিছু পাচ্ছে না। তাই ই কমার্সের সম্ভাবনা অনেক এবং এটা বাড়বেই, ভালোবাসার জায়গা থেকে না হলে ও প্রয়োজনে বাড়বে। তাই এভাবে যদি চিন্তা করা হয় যে একটা এলাকায় ১০০ মার্কেট বানানো যত সহজ তার থেকে সহজ ই কমার্সের সুবিধা পৌঁছে দেয়া। আর ই কমার্স মানে তো শুধু জামা কাপড় না অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি। সরকার আর আমরা চাইলে ২০১৮ এর মধ্যে সারা বাংলাদেশে এটা পৌঁছে দেয়া সম্ভব।

 

টেক প্রো টিউনস – এখন কোন রকম বাঁধা?

রাজিব আহমেদ-  এখন আর কোন বাঁধা নেই, গত তিন বছরে অনেক বাধা পাড় করেছি এখন সবাই ই কাবের মেম্বার, কারা মেম্বার না সেটার দেখার বিষয়।

 

টেক প্রো টিউনস – আপনি বলেছেন ২০১৮ সাল হবে ফান্ডিং এর বছর, বিস্তারিত জানতে চাই

রাজিব আহমেদ- পৃথিবীর কোথাও ই কমার্স সেক্টরকে ব্যাংক লোন দেয় না ওইভাবে তাই বিভিন্ন বিকল্প ফান্ডিং  এ যাওয়ার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে এরকম ফান্ডিং এখনো আসে নাই, আমরা আশা করছি ২০১৮ সালে এটা সম্পূর্ণ বদলে ফেলার, এক বছর কষ্ট হবে কিন্তু এই বছরের মধ্যে অন্তত ১০০ ই কমার্স কোম্পানি নান রকম ভাবে ফান্ডিং পায় সে দিকে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকবে, আমার ব্যক্তিগত একমাত্র লক্ষ্য।

 

টেক প্রো টিউনস- “খাই দাই কেক কাটি আর ই ক্যাব করি” এই ব্যাপারে কিছু বলবেন কি?

 রাজিব আহমেদ- তরুণদের ব্যবসা হবার কারনে সবাইকে নিয়ে একসাথে বসা একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা নিয়মিত আয়োজন করতাম ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে যাতে করে মানুষ ই ক্যাব সম্পর্কে জানতে পারে। কোন মাসে আমরা ৪টা পর্যন্ত প্রোগ্রাম করেছি। এরকম করার ফলে ভদ্রতা জানে না এমন লোক আমাদের বিদ্রুপ করে বলেছিলো “খাই দাই কেক কাটি” তবে সেখান থেকে ই জনপ্রিয় একটা স্লোগান আমারা বানিয়েছি “খাই দাই কেক কাটি আর ই ক্যাব করি”। এটা আমি ইচ্ছা করেই করেছি কারন সবাই যেন জানতে পারে যে ই ক্যাব এর যাত্রা কখনো ই খুব সহজ ছিলো না।আমার একার বিরুদ্ধে ২০০ পোস্ট ও এসেছে একটা সময়ে। ধন্যবাদ

 

টেক প্রো টিউনস- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য

 

 

ইন্টারভিউটি নেয়া হয়েছে ২৭শে নভেম্বর ২০১৮ তে

 

ই কমার্স এর কিছু ভুল এবং সমাধান- ই কমার্স টিপস

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

1 Comment

  1. ই কমার্স আজকের অবস্থানে দাড়াতে রাজীব ভাইয়ের অবদান অনেক। ধন্যবাদ ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *