আয়মান সাদিক

আয়মান সাদিক এবং স্বপ্নের টেন মিনিট স্কুল । একান্ত ইন্টারভিউ

আয়মান সাদিক এবং স্বপ্নের টেন মিনিট স্কুল । একান্ত ইন্টারভিউ

টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক ভাইয়ের সাথে কথা বলেছেন টেক প্রো টিউনস, আয়মান সাদিক বললেন টেন মিনিট স্কুল শুরু গল্প, শুরু করতে গিয়ে কি রকম সমস্যা হয়েছে সেটার গল্প, ৫ বছর কোথায় দেখতে চান সেটার পরিকল্পনার কথা জানলাম আয়মান সাদিকের কাছ থেকে। নিচে বিস্তারিত

 

টেক প্রো টিউনস: আইডিয়াটা কিভাবে পেলেন, একদম শুরুর গল্পটা জানতে চাই

আয়মান সাদিক : একদম শুরুতে আমি অফলাইনে স্টুডেন্ট পড়াতাম, একবার এক স্টুডেন্ট  অ্যাডমিশন এর সময় এসে বলল তাকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে তার বাবা ঢাকায় পাঠিয়েছে আর কোচিং এর ফি হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা।

আমার কাছে জানতে চাইলো  আমি এখন কি করবো, কোচিং কে যদি ৫০% ডিস্কাউন্ট দিয়ে ভর্তি করাতে বলি ও তাহলে তার ঝামেলা মিটবে না কারন থাকবে কোথায়, খাবে কি। এরকম একজন দুইজন না প্রতিবছর ২০-২৫ জন স্টুডেন্ট আমার কাছে আসতো যারা টাকার অভাবে পড়তে পারছে না। সেখান থেকেই মনে হলো আমি যদি এমন একটা ব্যাবস্থা করতে পারি যেখানে ফ্রিতে অনলাইন এ যে কোন স্টুডেন্ট তাদের রিসোর্স পাবে তাহলে তো ভালো হয়। 

এক কোন টাকা লাগছে না সম্পূর্ণ ফ্রি, দুই হচ্ছে এটা অনলাইনে আপনি ঢাকায় থাকেন আর যেখানেই থাকেন সব জায়গা থেকে এক রকম শিক্ষা দেয়া যাচ্ছে সবাইকে। তখন থেকেই ফ্রি অনলাইন এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম বানানোর পরিকল্পনা শুরু হয়। তখন আমার ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষ শেষ, ২য় বর্ষে ভর্তি হয়েছি।

এরপর আরো দুই বছর লেগেছে, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়েছে, বিভিন্ন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির কাছে যাই, তারা টাকা নেয়, ঠিক মত কাজ করে না। অবশেষে আমরা মে মাসের ১৭ তারিখ ২০১৫ সালে শুরু করি।

 

টেক প্রো টিউনসঃ এরকম চমৎকার একটা উদ্যোগের পিছনে মুল উদ্দেশ্য কি ছিলো

আয়মান সাদিক : মুল উদ্দেশ ছিলো দুইটা বাঁধা দূর করা, অর্থনৈতিক বাঁধা এবং ভৌগোলিক বাঁধা এই দুইটা বাঁধার কারনে বাংলাদেশের স্টুডেন্টরা ঠিক মত এডুকেশন পাচ্ছে না। আর একটা বাঁধা আমার মনে হয় সেটা হচ্ছে ইনফরমেশন বাঁধা, কারন পড়ানোটা যত সুন্দর করে বুঝানো যায়, যত সুন্দর করে শেখানো যায়, অনুপ্রেরনা দেয়া যায় এই কাজটা এই ব্যাপারটা হচ্ছিলো না। ফ্রি করলে অর্থনৈতিক বাঁধা নেই, অনলাইনে  করলে ভৌগোলিক বাঁধা নেই আর আমরা চাচ্ছিলাম বিভিন্ন রকম ইন্টার‍্যাক্টিভ কন্টেন্ট আনতে, কারন বাংলাদেশে এরকম কন্টেন্ট আগে ছিলো না যেমন স্মার্ট বুক আছে, লাইভ ক্লাস আছে যেখানে শুধু মাত্র ওয়ান ওয়ে কমিউনিকিশন না, টু ওয়ে কমিউনিকেশন হয়। তো সেখান থেকেই ৩টা মূল বাঁধা দূর করার জন্য 10 Minute school এর সূচনা।

 

টেক প্রো টিউনসঃ  পড়ালেখা হোক সব সময়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে” আপনাদের স্লোগানের পিছনের গল্প জানতে চাই

আয়মান সাদিক : এক হচ্ছে ফ্রি, দুই হচ্ছে ভৌগোলিক বাঁধা নাই আর ৩য় হলো সব কিছু পাবেন এখানে সব সময় এবং আমরা জানুয়ারি থেকে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে একেবারে ক্লাস ১২ পর্যন্ত, এরপর অ্যাডমিশন, আমরা ইউনিভার্সিটির কোর্স ও নেয়া শুরু করেছি, আরো নতুন নতুন স্কিল ডেভোলপমেন্ট কোর্স আসছে।

টেক প্রো টিউনসঃ 10 Minutes School এর টিম নিয়ে শুনতে চাই, কিভাবে একত্রিত হলেন সবাই, কাজ করছেন কিভাবে

আয়মান সাদিক : শুরুর দিকে আমার কিছু স্টুডেন্ট ছিলো, আমি বিভিন্ন অনার্স স্টুডেন্ট পড়াতাম তারাই জয়েন করলো টেন মিনিট স্কুল এ। শুরুতে ভলেন্টিয়ার সাপোর্ট ছিলো, আস্তে আস্তে তাদের মাধ্যমে টিমটা বড় হতে  শুরু করলো।

এখন আমরা ৫৩ জনের একটা বিশাল টিম এখানে কাজ করছে, ৪০ জনের বেশি শিক্ষক আছে এখানে। রাইটার আছে প্রায় ৩০ জনের মত তাই সব মিলিয়ে আপনি ধরতে পারেন ১৫০ জনের একটা বিশাল টিম কাজ করছে।

 

টেক প্রো টিউনসঃ ১০ মিনিটেই কেন? কোন গল্প আছে কি এর মধ্যে?

আয়মান সাদিক : আমরা বাঙ্গালিরা কিন্তু সব সময় এই কথাটা বলি, যেমন ধরেন আপনি ঘুমিয়ে আছেন কোথাও যেতে হবে আপনি বলেন “ভাই ১০ মিনিটে আসছি”। ৫ ঘন্টা লাগলে ও ১০ মিনিট, ১ মিনিট লাগলে ও ১০ মিনিট। আমরা ১০ মিনিটে সব কাজ করতে চাই, সেখান থেকেই চিন্তা করা তাহলে পড়ালেখা কেন ১০ মিনিটে করবো না। তাই প্ল্যান করলাম যা শিখতে চাও, যা প্র্যাকটিস করতে চাও সব ১০ মিনিটে, সেখান থেকেই নামটা ঠিক করি 10 Minute School

মাত্র ১০ মিনিটে ব্যাপারটা করা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ, নতুন কেউ আসলে প্রথমে একটু সমস্যার মধ্যে পরে যায় যে মাত্র ১০ মিনিটে করতে হবে। আসলে অনলাইন এ আপনার একটা পড়ালেখার কন্টেন্ট ঠিক পাশে একটা গানের ভিডিও, তার ঠিক পাঁশে একটা নাচের ভিডিও ইত্যাদি ইত্যাদি এবং ওই ভিডিওগুলা অবশ্যই অনেক ইন্টারেস্টিং। আর সেটা ফেলে রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা ক্লাস আসলে কেউ করতে চাইবে না তাই চিন্তা করলাম যত ছোট করবো তত ভালো, আমার শুরু দিকের ভিডিও গুলা যদি দেখেন সেগুলি এক মিনিটের, আমি টাইমার নিয়ে বসতাম, ৫০ সেকেন্ড আসলেই তারাতাড়ি শেষ করে ফেলার চেস্টা করতাম।

 

টেক প্রো টিউনসঃ সব থেকে জনপ্রিয় ফিচার লাইভ অ্যাডমিশন কোচিং এর ব্যাপারটা যদি বলেন

আয়মান সাদিক : আমরা এখন লাইভে SSC নিয়ে আসছি, HSC নিয়ে আসছি, লাইভে আমাদের একটা সফটওয়্যার কোর্স ও কমপ্লিট হয়ে গেছে, লাইভে শুরু হয়েছিলো অ্যাডমিশন দিয়ে এখন প্রায় সব ই চলে আসছে।

 

টেক প্রো টিউনসঃ অনেকেই আইডিয়া বাস্তবায়ন  করতে ভয় পায় বা সামনে এগুতে ভয় পায়, হয়তো চিন্তা করে “পারবো না” তাদের উদ্দেশে কি বলবেন।

আয়মান সাদিক : আমি তখন  একটা ওয়েব ডেভোলপার ফার্মকে ৫০ হাজার টাকা অ্যাডভাঞ্চড দিয়েছিলাম, ওই সময়ে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করা অনেক কঠিন ছিলো কারন টিউশনি করে টাকা উপার্জন করতাম। তারা ৬ মাস আমাকে ঘুরালো, কিছু পেলাম না, বেশ হতাশ হলাম, এরপর অর্ধেক পেমেন্ট দিলাম ২৫ হাজার টাকা,  আবার ঘুরালো, কিছু করে না, তাই শুরুতে যখন আপনি কাজ করবেন কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।

আমার যে প্রথম ভিডিও ছিলো “ফর্মুলা কিন্তু একটাই” ওইটা টেন মিনিট স্কুল এর জন্য বানানো হয় নাই, অন্য একটা কাজের জন্য বানানো হয়েছিলো, আসলে শুরু দিকে কাজ পাওয়া অনেক কঠিন। এখন আমি কারো জন্য একটা ভিডিও বানিয়ে দিলে সেটা হয়তো দেখবে ও না, সরাসরি আপলোড করে দিবে। এখন সফটওয়্যার ফার্ম এসে বলে তারা কাজ করে দিবে আর শুরুর দিকে পুরাটা উল্টো ছিলো আমি ঘুরেছি মানুষের পিছে। আমার কাছে মনে হয় এটা একটা সাইকেল। আপনি একটা নতুন কাজ যখন শুরু করবেন বেশিরভাগ মানুষ ই আপনাকে চিনে না। তাই বলি মানুষ পাত্তা দিবে না, পাত্তা আদায় করে নিতে হবে। আবার এখানে কিছু টেকনিক ও আছে যেমন আমি পাঞ্জাবি পরি যেন আমাকে একটু বয়স্ক লাগে।

যারা ভয় পাচ্ছে আইডিয়া বাস্তবায়ন করার তাদের উদ্দেশে বলবো মানুষ যদি এখন পাত্তা না দেয় তাহলে সেটা ওদের উপর দোষ না দিয়ে নিজের উপর দোষটা দাও, তোমাকে পাত্তা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, কিছু না কিছু করতে হবে, নিজের কাজ জমাও, কেউ পাত্তা দিচ্ছে না তখন নিজের একটা কাজ দিয়ে দাও তাহলে অন্তত কিছু বুঝবে মানুষ। আর অনলাইন দিয়ে আসলে অনেক কিছু করা যায় যেটা সম্পর্কে হয়তো আমাদের আইডিয়া ও নাই, কোন কিছু হয়তো আমরা শিখি নাই চাইলে কিন্তু সেটা এখন অনলাইনে এ পাওয়া যায়। তাই নিজের ইচ্ছা যদি থাকে তাহলে করা যায় আর পাত্তা পাওয়ার মত অবস্থানে আসলে মানুষ এমনিতেই পাত্তা দিবে।

আজকে থেকে ১০ বছর আগে এরকম একটা অবস্থানে যাওয়া অনেক কঠিন ছিলো কিন্তু এখন অনলাইন এর দুনিয়ায় সব ই আছে, টেন মিনিট স্কুল কিভাবে ভিডিও বানায় আমাদের নিজেদের ভিডিও আছে আমরা কিভাবে ভিডিও বানাই। আজকে যদি কেউ টেন মিনিট স্কুল এর মত আর একটা কিছু খুলতে চায় যেটা শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান যারা অনলাইনে  কাজ করবে তারা এই ভিডিওগুলা দেখে দেখে ই করতে পারবে। আমরা যেটা দুই আড়াই বছর ধরে শিখে শিখে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে এই অবস্থায় আসছি সেটা আমরা অনলাইনে সম্পূর্ণ ওপেন করে রেখেছি, কেউ যদি চায়, তার যদি ইচ্ছা থাকে সে কিন্তু অনলাইন থেকে এই জিনিসগুলা জানতে পারে।

 

টেক প্রো টিউনসঃ এখন বেশ জনপ্রিয় আপনি, এটাকে কিভাবে দেখছেন?

আয়মান সাদিক : আমার আগের লাইফ স্টাইল যেমন ছিলো ঠিক তেমন ই আছে, তবে এখন অনেক জায়গায় গেলে অনেক স্টুডেন্ট আমাকে চিনতে পারে, তাদের সাথে ছবি তোলা হয়, আড্ডা হয়, আমি যখন কোচিং থেকে বের হলাম তখন মনে হচ্ছিলো স্টুডেন্টদের সাথে হয়তো আগের মত দেখা হবে না তবে এখন আরো ভালো লাগে, প্রতিদিন ই হয়তো স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি তে যাচ্ছি সেশন নিচ্ছি, বড় বড় সেমিনারে কথা বলছি, আর সেখানে যখন যার সাথে দেখা হচ্ছে কথা বলছি। পড়ানোটা আমার খুব ভালো লাগে, এটা সব সময় ই আমি উপভোগ করতাম, এখন এটা সব সময় সুযোগ হয়ে যায়।

 

টেক প্রো টিউনসঃ আপনার এবং টেন মিনিট স্কুলের স্বপ্ন কি, ৫ বছর পর কোথায় দেখতে চান নিজেকে, টেন মিনিট স্কুল কে এবং বাংলাদেশকে

আয়মান সাদিক : নিজের কথা যদি বলি ছোট আকারে আমার নিজের একটা পেজ আছে দেখবেন Ayman Sadiq, এটা ভেরিফাইড পেজ, ওখানে আমি রেগুলার ভিডিও আপলোড করি, আমার একটা ইউটিউব চ্যানেল  Ayman Sadiq  এটা ভিরিভাইড ইউটিউব চ্যানেল প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজারের মত সাবস্ক্রাইবার আছে সেখানে, আমার যখন যেটা ভালো লাগে সেটা নিয়ে আমি শেখানোর চেস্টা করি, ভিডিও বানাই আর সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে একদিনে ই প্রায় লাখ খানেক অথবা লাখ দুয়েক মানুষ ভিডিও দেখে ফেলে।

৫ বছর পরের স্বপ্নটা হচ্ছে এখন যেভাবে শিখাচ্ছি সেভাবেই শিখাতে চাই, এখন যদি দুই দিনে দুই লাখ মানুষ দেখে তাহলে ৫ বছর পর দুই দিনে ২০ লাখ মানুষ দেখুক। এটা পারসোনাল জায়গা থেকে

টেন মিনিট স্কুল এর স্বপ্ন হলো আগামী বছর মানে ২০১৮ এর জানুয়ারিতে আমাদের এপ্সটা চালু করবো একেবারে ক্লাস ১ থেকে ক্লাস ১২ পর্যন্ত। আমাদেরটেন মিনিট স্কুল এর বড় নিউজ গলো এটাই, আমাদের পরবর্তী প্ল্যান হলো এই এপ্স এর সাথে বাংলাদেশের ১ লক্ষ ৭০ হাজার স্কুল এবং ৪ কোটি ২৭ লক্ষ স্টুডেন্টদের কানেক্ট করে ফেলা।

বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে, আরো ওপেন হবে, ক্রিটিকাল থিঙ্কিং, প্রবলেম সল্ভিং ইত্যাদি যে ব্যাপারগুলা প্রয়োজন হয় সেটা এ দেশের কারিকুলামে চলে আসবে। যে যেটাতে ভালো তাকে সেটাতে পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়া হবে এবং মুখস্থ বিদ্যা থেকে বের হয়ে ইনটেলিজেন্ট বেসজড একটা সিস্টেম এ পরিনত হবে এবং টেন মিনিট স্কুলএখানে বড় ভুমিকা পালন করবে।

 

টেক প্রো টিউনসঃ প্রফেশনাল কোর্স অথবা স্কিল ডেভোলপমেন্ট এ যদি আসি তাহলে দেখা যায় অনেকেই কাজ শিখার আগেই কিভাবে উপার্জন করা যায় সেই চিন্তা করে, এটাকে কি আপনি বাঁধা বলবেন আর বাঁধা হলে সেখান থেকে কিভাবে বের হতে হবে

আয়মান সাদিক: যে কোন বিষয়ের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জ বলতে পারেন। আপনি যদি এরকম চান তাহলে এখানে দোষের কিছু নাই। ওই লেভেলটা বুঝতে হবে, যেমন আপনি গ্রাফিক ডিজাইন শিখান, আপনি  একটা স্টুডেন্ট এর একটা ডিজাইন দেখেই বুঝে যাবেন সে কতটুকু শিখেছে, কতদুর যাবে, এখানে তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করতে হবে আসলে মানুষ মাত্রই আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখে, আমি একটু আগে আমার যে স্বপ্নের কথা বললাম এটা শুনে আর একজন হাসবে যে কি চিন্তা করছে। এখানে একটা গাইডলাইন আমরা দেয়ার ব্যবস্থা করছি।

এই ফ্রিল্যান্সিং এ কোন ওয়েবসাইট এ যেতে হয় এটা কি ফাইবার ডট কমে যেতে হয় নাকি ফ্রিল্যান্সার ডট কমে, কোন ওয়েবসাইট এ গেলে কোন সার্ভিস এর জন্য ভালো কাজ করবে। কোন লেভেলের জন্য কোন কাজটা করা ভালো, কেউ ডাটা এন্ট্রির কাজ করবে নাকি ডিজাইন এর কাজ করবে।

অনেকের আবার পিসি নাই, মোবাইল আছে, তাহলে মোবাইল দিয়ে কি কাজটা করা যেতে পারে। এর জন্য আমারা ফ্রিল্যান্সিং ও শিখাচ্ছি।

আর স্কিলড হবার আগেই আরনিং এর চিন্তা করার ব্যাপারটা হচ্ছে “Learning and earning” এর জায়গায় “Earning and learning” হয়ে যাচ্ছে। তাই এখান থেকে মাইন্ড চেঞ্জ করে “Learning and earning” আসতে হবে,

 

টেক প্রো টিউনসঃ আপনার ভিডিওর বিষয়গুলা একটু অন্যরকম, বাক্সের বাইরে এসে চিন্তা করে ভিডিওগুলা বানানো হচ্ছে, আইডিয়াগুলা কি আপনার একার নাকি টিম মেম্বারদেরও।

আয়মান সাদিক : আমি আসলে প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সাথে কথা বলি। প্রচুর মানুষের সাথে দেখা হয়, যেমন একটু আগে আইসিটি ডিভিশন এ ছিলাম সেখানে ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে কথা হলো অনেকের সাথে, আমি প্রতিদিন কারো না কারো থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখছি। আমি ওই কবিতার লাইন খুব বিশ্বাস করি “বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র”

সবার খারাপ জিনিস অথবা পরচর্চা নিয়ে আমরা ব্যাস্ত থাকি, সেখান থেকে ঠিক উল্টাটা চিন্তা করেন আর যার যে ভালো জিনিসটা আছে সেটা তুলে ধরেন এবং নিজের মধ্যে করার চেষ্টা করেন তাহলে ই কিন্তু কাজটা হয়ে যায়।

আর আমি ইউটিউব এ প্রচুর ভিডিও দেখি, যদি ও আমি আইবিএ তে পড়াশুনা শেষ করেছি তারপর ও আমার পড়াশুনা করতে অনেক ভালো লাগে।

 

টেক প্রো টিউনসঃ আমাদের  ব্লগ টেক প্রো টিউনস, আইটি বিষয়ক ছোট একটা ব্লগ, কিভাবে আরো ভালো করতে পারি আমরা যদি কিছু বলতেন।

আয়মান সাদিক : আমি বলবো টেক নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করার সমূহ সম্ভাবনা, টেক ডেডিকেটেট ব্লগ এখনো রাইজিং, শুনে অনেক ভালো লাগলো যে আপনারা এটা শুরু করেছেন এবং টেক নিয়ে থাকছেন, কাজ করছেন, আপনাদের জন্য অনেক শুভ কামনা এবং ছোট একটা সাজেশন থাকবে টেকে অনেক কিছু এখনো ঠিক মত শুরু হয় নি যেমন প্রোডাক্ট ফিচার নিয়ে রিভিউ এর ব্যাপার শুরু হয় নি, বিভিন্ন জায়গা ফাঁকা আছে, আমি যদি দেখি আপনারা এই জায়গাগুলা নিয়ে কাজ করছেন তাহলে খুবি ভালো লাগবে।

 

 

 

ইন্টারভিউ গ্রহন করা হয়েছে ২৮/১২/২০১৭ তে।

 

 

আমার নাম আরিফুল। গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করি। লিখতে অনেক ভালোবাসি। মুলত আইটি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা লিখি থাকি।আমি এই ব্লগের এডমিন। আশা করি আপনাদের ভালো কিছু আর্টিকেল দিতে পারবো যা পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। এটার সাথে আমি ই ক্যাব এবং জেনেসিস ব্লগে ও লিখে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *